বিসিএস এবং একজন রাস্তার ক্যাডার ⋆ Simple and Straight Thoughts of Nur Hossain
1438
post-template-default,single,single-post,postid-1438,single-format-standard,ajax_leftright,page_not_loaded,,qode-title-hidden,qode_grid_1400,qode-theme-ver-16.7,qode-theme-bridge,disabled_footer_bottom,wpb-js-composer js-comp-ver-5.5.2,vc_responsive
bcs

বিসিএস এবং একজন রাস্তার ক্যাডার

প্রশ্নঃ একটি সমীকরণ লিখুন যার ফলাফল ১৩ হয়।

উত্তর কঃ ১২ + ১ = ১৩

উত্তর খঃ ৭+৩-৪+৩+২-৮+২-৩+৯+১+১ = ১৩

প্রশ্ন একই কিন্তু উত্তর ভিন্ন। এবং দ্বিতীয় উত্তরটি হচ্ছে বিসিএস পরীক্ষার উত্তর।

বিসিএস হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে নোংরা চাকুরীর পরীক্ষাদের একটি।

নোংরা বলছি কারণ এ পরীক্ষায় পাশ করতে হলে আপনাকে অমানুষিক পরিশ্রম করতে হবে। ১৬-১৭বছরের দীর্ঘ শিক্ষা জীবন শেষ করে আপনাকে আবার বিশেষ বিসিএস প্রস্তুতি নিতে হবে যেখানে প্রতিদিন ১২-১৬ ঘন্টা পড়ালেখা করতে হবে। পৃথিবীর সবচেয়ে সফল ব্যক্তি বা বড় ডাক্তাররা যেখানে ৮ ঘন্টা ঘুমানো পরামর্শ দেন, ৮-১০ ঘন্টার বেশি কাজ না করার পরামর্শ দেন সেখানে ১২-১৬ ঘন্টা পড়ালেখা করা সত্যি অমানুষিক ব্যাপার। আচ্ছা বিসিএসের মধ্য দিয়ে এমন কিছু আবিষ্কার বা অর্জন হবে যা পৃথিবীর সবচেয়ে সফল ব্যক্তিগুলো অর্জন করতে পারেনি?

তাহলে ১৬-১৭ বছর আমরা কী শিখলাম যা আমাদেরকে বিসিএস পাশ করার জন্য যোগ্য করে তোলেনা? একজন ডাক্তারকে যখন বিসিএসে প্রশ্ন করা হয় “সম্রাট শাহজাহান বাসর রাতে মমতাজকে কী নামে ডেকেছিলেন?” তখন ডাক্তার কীভাবে উত্তর দিবেন? ডাক্তারতো পড়েছেন কীভাবে চিকিৎসা করতে হয়, এসব ঐতিহাসিক প্রেম-ভালোবাসার সাথেতো ডাক্তারের কোন কাজ নেই। তবে কেন এসব আজব প্রশ্ন? পৃথিবীর সবচেয়ে আজব প্রশ্নপত্রও মনে হয় বিসিএসে করা হয় কারণ এখানে অতীত শিক্ষা জীবন ও ভবিষ্যত কার্যক্ষেত্র সম্পর্কিত প্রশ্ন থেকেও প্রাধান্য পায় অজানা প্রশ্ন যদিও তার কোন ব্যবহার বাস্তব জীবনে নেই।

বিসিএস পরীক্ষায় আপনার সৃজনশীলতা থেকে আপনার মুখস্ত বিদ্যার পরীক্ষা নেয়া হয় বেশি। আপনার যাদেরকে সৃজনশীল মনে হয় তাদের কজন বিসিএস ক্যডার? কিংবা বিসিএস ক্যাডারদের কজন আপনার সৃজনশীল মনে হয়? আমার মনে হয় সংখ্যাটা অনেক কম।
এবং বিসিএস হচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ চাকুরির পরিক্ষাদের একটি যেখানে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। দীর্ঘ শিক্ষাজীবন শেষে সবার স্বপ্ন থাকে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করবে, চাকুরী করবে, ঘর-সংসার করবে। কিন্তু না, বিসিএস আপনাকে বছরের পর বছর অপেক্ষা করাবে শুধুমাত্র নষ্ট সিস্টেমের কারণে।

এবং এতকিছুর পরও কিন্তু আপনি পাশ করতে পারবেন না যদি বিশেষ লবিং না থাকে। শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেকেই লবিং ছাড়া নিয়োগ পায় তবে এডমিন পদে সংখাটা অনেক কম।

আমরা আসলে অনেক মেধাবী জাতি। কিন্তু মেধাগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছেনা। আমি বলছিনা বিসিএস খারাপ পরীক্ষা বা যারা পাশ করে তারা মেধাবী না। আমি বলতে চাচ্ছি বিসিএসের মধ্য দিয়ে আমাদের মেধা, সময় — সবই নষ্ট করা হচ্ছে। বিসিএসে আজেবাজে প্রশ্নের জন্য আমরা নিজেরা উইকিপিডীয়া হয়ে যাচ্ছে যার অধিকাংশ তথ্যই অপ্রয়োজনীয় ও অব্যবহৃত হয়ে যায়। বিসিএসের কারণে আমরা দীর্ঘ সময় চরম পরিশ্রম ও দুশ্চিন্তার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করি, নিজেকে করি নির্যাতিত ও টিয়া পাখি।

আসলে বিসিএস সাধারণ মানুষের পরীক্ষা না কিন্তু আমরা তা মেনে নিয়েছি কারণ জীবনযুদ্ধে বেঁচে থাকতে হলে অর্থ উপার্জন করতে হবে। তাই আমরা অনিয়মকে নিয়ম হিসেবে মেনে নিয়েছি, অযোক্তিক পরিশ্রম ও মানসিক কষ্টকে যৌক্তিক মনে করছি, আর এসব অযৌক্তিক পরীক্ষায় পাশ বা প্রথম স্থান অর্জন অনেক বিশাল সফলতা বলে জাতীয়ভাবে মনে করছি।

তাহলে জাতীয় সফলতা অনেক দূর।

পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন চাকুরির পরীক্ষায় যারা পাশ করেছেন তাদেরকে অভিনন্দন।

Discussions